1. rafiqulislamnews7@gmail.com : Rafiqul Islam : Rafiqul Islam
  2. jmitsolution24@gmail.com : jmmasud :
রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিবচরে জাতীয় প্রানীসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরন মাদারীপুর-১ আসনে এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ শাজনীন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্ট্যাডিজ বিভাগে ২য় স্থান অর্জন করেন শিবচরের মিমো সৌদি আরব থেকে দেশে এসে স্ত্রী -সন্তানদের সাথে দেখা করতে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পথে যুবকের মৃ*ত্যু শিবচরে আলোচিত রাকিব হ*ত্যা মাম*লার দুই আ*সা*মী গ্রে*ফ*তার শিবচরে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হলেন ইদ্রিস ও লাইলুন নাহার শিবচরে ৩ মাসের শিশুকে নদীতে ফেলে হত্যা করলো মা, অভিযুক্ত মা মানসিক ভারসাম্যহীন দাবী শিবচরে মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান ক্যাম্পাসে ভালোবাসায় সিক্ত ‘জুলাই কন্যা’ মাদারীপুরের তন্বী ডাকসু নির্বাচনে শিবচর থেকে প্রার্থী হয়েছেন যারা

মাদারীপুরে বাবা মায়ের বিয়েতে ছেলে অতিথি

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২, ৮.৪৮ পিএম
  • ৮৩২ জন সংবাদটি পড়েছেন।

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ

তিন বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় মিলন সুমি দম্পতির। বিয়ের পর তাদের সংসারে জন্ম নেয় এক পুত্র সন্তান। বিয়ের কয়েকমাস পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি হয়। পরবর্তীতে সুমি আক্তার বাদি হয়ে মাদারীপুর আদালতে স্বামী মিলন সরদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এসময় মিলন ক্ষিপ্ত হয়ে সুমিকে তালাক দেয়। ঘটনাটি ঘটে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের খাগদা গ্রামে। মিলন ওই এলাকার কুদ্দুস সরদারের ছেলে ও সুমি আক্তার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর গ্রামের শওকত আলীর মেয়ে।
জানা যায়, সুমির দায়ের করা মামলাটি সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য ছিল সোমবার (৩১ অক্টোবর)। ঐ দিন আসামী মিলন ও মামলার বাদি সুমি এবং তাদের একমাত্র সন্তানসহ পরিবারের লোকজন আদালতে উপস্থিত ছিল। চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণকালে ছোট একটি শিশু এজলাসের ভিতরে দৌড়া দৌড়ি করতে ছিল। চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছেলেটির পরিচয় জানতে চাইলে উভয়পক্ষ জানান যে, ঐ মামলার আসামি ও বাদির ছেলে। চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত মামলার বাদি সুমি আক্তার এবং আসামি মিলন সরদারকে সন্তানটির দিকে বিবেচনা করো সংসার করার পরামর্শ প্রদান করেন। উক্ত পরামর্শ অনুযায়ী বাদি বিবাদী ও তাদের উভয়ের পরিবার আপোষ নিষ্পত্তির বিষয়ে আলাপ আলোচনা করে উভয় পক্ষের ভুল সংশোধন করে পুনরায় সংসার করবেন মর্মে আদালতকে অঙ্গিকারনামা প্রদান করেন।
উভয় পরিবারের সম্মতিতে পুনরায় মাদারীপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ এর উদ্যোগে সোমবার রাতে পুনরায় নতুন কাবিনমূলে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে মিলন ও সুমি পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গনে এই ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ, জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, পাবলিক প্রসিকিউটর মো. সিদ্দিকুর রহমান সিং, ঘটমাঝি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট বাবুল আকতারসহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট, আইনজীবীসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
মাদারীপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আদালত চলাকালে আমি জবানবন্দি নিচ্ছিলাম, তখন দেখলাম একটি শিশু এজলাসের ভিতরে দৌড়াদৌড়ি করছে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা শিশুটিকে বের করে দিচ্ছিল। আমি বললাম শিশুটি ওর মত করে থাকুক এবং জানতে চাইলাম এই শিশুটি কার? তখন জানতে পারলাম চলমান মামলার বাদি ও আসামির ছেলে। তখন বিষয়টি আমার কাছে অন্যরকম মনে হয় এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে আমি বাদিকে জিজ্ঞাস করলাম আপনি কি বর্তমান অবস্থায় সংসার করতে রাজি আছেন। বাদি বলল জি¦ স্যার আমি সংসার করতে রাজি আছি। সাথে সাথেই আমি আসামিকেও জিজ্ঞাস করলাম আপনি কি সংসার করতে রাজি আছেন? আসামি বলল জি¦ স্যার আমি সংসার করতে রাজি। ঐ দিন আদালতের কাজ শেষ করে মামলার দুই আইনজীবী, বাদি ও বিবাদি পক্ষের লোকজনসহ আমার চেম্বারে বসে পুরো ঘটনা শুনলাম। তখন আমার মনে হলো দ্জুনের সামান্য ভুল বুঝাবুঝির কারনে সংসার হচ্ছে না। উভয় পরিবারের লোকজনের সাথেও কথা বললাম। তখন উভয় পরিবারের লোকজনসহ মিলন ও সুমি পুনরায় সংসার করতে রাজি হলো। পুনরায় বিয়ের বিষয়টি গ্রামের মানুষ ভালোভাবে নিবে না বলে উভয় পরিবারের সদস্যরা বলল। তখন আমি বললাম আপনাদের বিয়ের অনুষ্ঠানটি আমরা আদালত প্রাঙ্গনে বসে করবো। এখানে জেলা ও দায়রা জজ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সকল বিচারক, আপনাদের পরিবারের লোকজন ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবো। আজ সকলের উপস্থিতিতেই বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করলাম। ভেঙে যাওয়া একটি সংসার পুনরায় একত্রিত করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত’।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022
Don`t copy text!