মাদারীপুর প্রতিনিধি:
আধুনিক সময়ে অভিভাবকদের একটি সাধারণ অভিযোগ—শিশুরা পড়াশোনায় আগ্রহ হারাচ্ছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা যেমন তাদের মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে, তেমনি প্রচলিত পাঠ্যবইয়ের একঘেয়েমিও তাদের পড়া থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। তবে শিক্ষাবিদদের মতে, সহজ ভাষা, ছন্দ ও আনন্দময় উপস্থাপনার মাধ্যমে শেখানো গেলে শিশুরা দ্রুত শিখতে পারে এবং তা দীর্ঘদিন মনে রাখতে সক্ষম হয়।
এই বাস্তবতা মাথায় রেখে বহুমাত্রিক লেখক অধ্যাপক ড. ডি. এম. ফিরোজ শাহ্ রচনা করেছেন ব্যতিক্রমধর্মী ছড়াগ্রন্থ ‘হাবু মিয়ার স্বদেশ ভ্রমণ’। বইটি শিশুদের জন্য একাধারে বিনোদন ও শিক্ষার সমন্বয়। ছন্দের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার নাম, অবস্থান, বিখ্যাত খাবার এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থানের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায়।
গ্রন্থটির বিশেষত্ব হলো—শিশুরা খেলতে খেলতেই দেশের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে, তাও কোনো মানসিক চাপ ছাড়াই। ‘হাবু মিয়া’ নামের এক সরল চরিত্রের ভ্রমণকাহিনি ঘিরে সাজানো হয়েছে পুরো প্লট, যা শিশুদের কৌতূহল জাগিয়ে তোলে এবং পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে।
লেখকের সৃজনশীল উপস্থাপনায় একটি বার্তাও স্পষ্ট—যদি সাধারণ একজন মানুষও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সারা দেশ ভ্রমণ করতে পারে, তবে নতুন প্রজন্ম কেন পিছিয়ে থাকবে? এই অনুপ্রেরণামূলক দিকটিও বইটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
উল্লেখ্য, ড. ডি. এম. ফিরোজ শাহ্ ১৯৬৯ সালের ১ আগস্ট মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। একজন শিক্ষক প্রশিক্ষক হিসেবে তার দেশব্যাপী সুনাম রয়েছে। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি ভ্রমণপ্রিয় একজন মানুষ, যিনি এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ৫০টি, যার মধ্যে গল্প, কবিতা, একাডেমিক বই এবং ভ্রমণকাহিনি উল্লেখযোগ্য।
সাহিত্যবোদ্ধারা মনে করছেন, ‘হাবু মিয়ার স্বদেশ ভ্রমণ’ বইটি শিশুদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের প্রতি ভালোবাসা ও জানার আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।