মাদারীপুর প্রতিনিধি
এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকে রেখে মাদারীপুরে মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। টাকা দিতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী এখনো প্রবেশপত্র হাতে পায়নি। তারা দুশ্চিন্তায় সময় পার করছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সরজমিনে কয়োজন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকের সাথে কথা বলে এ সকল তথ্য জানা যায়।
তারা জানায়, এবার উপজেলার মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এ বছর নিয়মিত ৭০ জন আরপি ২০ জনসহ মোট ৯০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৬০০ টাকা করে আদায় করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। টাকা না দিলে তাদের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকে রাখা হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগের বোর্ড ফি ১ হাজার ৭২৫ টাকা ও ব্যবহারিকসহ কেন্দ্র ফি ৫২৫ টাকা এবং ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে বোর্ড ফি ১ হাজার ৬৩৫ টাকা ও ব্যবহারিকসহ কেন্দ্র ফি ৪৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।অথচ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফরম পূরণের সময় ২ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করেছে। এখন আবার প্রবেশপত্র ফি হিসেবে ৬০০-৮০০ এবং কোচিং ফি বাবদ ২ হাজার টাকা আদায় করছে। এমনকি শিক্ষক দ্বারা কোচিং করিয়ে তাদের টাকা না দিয়ে সব টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এছাড়াও শিক্ষকরা কোচিংয়ের টাকা ও স্কুল থেকে পাওয়া মাসিক বেতনের টাকা চাইতে গেলে স্হায়ী দুই সংসদ সদস্যের ক্ষমতা অপব্যবহার করে তাদেরকে ভয় ভীতি দেখান তিনি। নিরুপায় হয়ে ভয়ে কোন শিক্ষকরা কথা বলতে পারছে না তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে কয়েকজন শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল বুধবার সকালে স্কুল থেকে ফোন করে জানানো হয় বৃহস্পতিবার ৯ই এপ্রিল সকালে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে তখন ফোনে বলে দেয় প্রবেশপত্র নিতে হলে দিতে হবে ৬০০ টাকা। টাকা না দেওয়ায় আমাদের প্রবেশপত্র আটক করে রাখেন। তারা আরও বলেন, ৬০০ টাকা না দিলে কাউকে এবার প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না। আমাদের পিতা একজন কৃষক মানুষ। এর আগে অনেক কষ্ট করে ফরম ফিলাপ ও কোচিং এর ফ্রিসহ ৪৫০০ টাকা দিয়েছি। এখন ৬০০ টাকা দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই খালি হাতে চলে আসছি। পরীক্ষা দিতে পারব না ভেবে অনেক কষ্ট হচ্ছে। উল্লেখ্য এর আগে এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ ২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪৫০০ হাজার টাকা আদায় করে।
শিক্ষার্থীরা আরো জানান,৬ শত টাকা না দিলে প্রবেশপত্র দিবে না এমনকি আমাদের পরীক্ষার হলেও যেতে দিবে না। সেই ভয় দেখান তিনি। এর আগে ফরম ফিলাপের আগে কোচিংয়ের টাকা নিছে। কোচিংয়ের টাকা না দিলে ফরম ফিলাপ করতে দেবে না এই হুমকি দিয়ে আমাদের কাছ থেকে কোচিং এর টাকা আগে নিছে। কিন্তু ঠিকমতো কোন কোচিং করানো হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদ্রা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, কোচিং ও কেন্দ্র ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক জানান, তাদেরকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। তারা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীরা আো জানান, তিনি কোচিং ফি বাবদ আগে নিয়েছে ২ হাজার টাকা। এখন প্রবেশপত্রের জন্য ৬০০ টাকা পরিশোধ করে প্রবেশপত্র নিয়েছি। এর বিনিময়ে কোনো রসিদ দেয়নি।
একাধিক পরীক্ষার্থীর অভিভাবকেরা জানান, কোচিং ফি ও প্রবেশপত্র ফির নামে তার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়েছে।এই কলেজের অধ্যক্ষ বিএনপি নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকদের ভয় দেখিয়ে থাকে। কেউ কথা বললে তাকে মানসিক নির্যাতন করেন। প্রতিনিয়ত এরকম অনিয়ম করে যাচ্ছে। এ সকল দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের বিচার হওয়ার দাবি জানাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছু একাধিক শিক্ষকরা অভিযোগ করে জানান, আমরা অধ্যক্ষ দ্বারা অনেক নির্যাতিত। বেতনের টাকা চাইতে গেলেই সে অপমান অপদস্ত করে তাড়িয়ে দেন। এমন কি বলেন আমার ক্ষমতা কত দূর এটা আপনারা জানেন। ইচ্ছা করলে আপনাদের চাকরি খেয়ে দিতে পারি। আমরা দূরের থেকে এসেছি এই ভয়ে কিছু বলতে পারিনা।
নাম প্রকাশে নিচ্ছুক কোচিং-এ পাঠদান করার এক শিক্ষক জানান, এবার কোচিংয়ে ৭০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে উত্তোলন করা হয়েছে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। আমাদের তিনজন স্যারকে ৬০০০ টাকা দিছে। তাও বেতন এবং কোচিং বাবদ। বাকি টাকা অধ্যক্ষ স্যার আত্মসাৎ করেছে। কিন্তু তার ক্ষমতা অনেক আমরা ভয় কিছু বলতে পারছিনা। যদি আমাদের চাকরি খেয়ে ফেলে।
এদিকে অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, শিক্ষা সফরের নামে নিয়েছেন টাকা কিন্তু শিক্ষা সফরে না গিয়ে সেই টাকাও তিনি আত্মসাৎ করেছেন। শিক্ষা সফরের টাকা চাইতে গেলে রেগে এখান থেকে চলে যেতে বলেন।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন নিয়মিত শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও মোটা অংকের টাকা দিয়ে ফরম পূরণের সুযোগ পায়।
এদিকে একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, তিনি এই স্কুলে যতদিন থাকবে ততদিন ভালো লেখাপড়া দূরের কথা শুধু টাকা ছাড়া তিনি কিছুই বোঝেনা। তিনি স্যারদেরও ঠিকমতো টাকা দেয় না।ভয় ভীতি দিয়ে রাখে। আমরা দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ স্যারের কঠিন বিচার চাই।
এ ব্যাপারে মাত্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ কাজে ওবাইদুর রহমান জানান, নিজেদের প্রতিষ্ঠানের এতো অল্পসংখ্যক পরীক্ষার্থীর ফি দিয়ে কেন্দ্র খরচ চালানো সম্ভব নয়। তাই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করে অতিরিক্ত কিছু টাকা আদায় করা হয়েছে। এখানে তার ব্যক্তিগত কোনো লাভক্ষতির বিষয় নেই।
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফরিদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব জানান, খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখা হবে।